হলুদপেটে রঙিলা সাপ
সকল সাপ
বিষধরনিউরোটক্সিক (স্নায়ু বিষ)IUCN: Least Concern

হলুদপেটে রঙিলা সাপ

Yellow-bellied Sea Snake

Hydrophis platurus

হলুদ-পেট সামুদ্রিক সাপ,নামের মতোই, এই সাপের শরীরে দুই রঙের আলাদা প্যাটার্ন থাকে। পেটের নিচের দিক হলুদ এবং পিঠের দিক বাদামী। এ কারণে একে অন্যান্য সামুদ্রিক সাপ থেকে সহজেই আলাদা করা যায়। অন্যান্য অনেক সামুদ্রিক সাপের মতো হলুদ-পেট সামুদ্রিক সাপও সারাজীবন সমুদ্রে থাকার জন্য পুরোপুরি অভিযোজিত। এরা সমুদ্রেই প্রজনন করে, খাবার খায় এবং জীবন্ত বাচ্চা প্রসব করে- একে বলে ডিম্ব-জরায়ুজ ovoviviparous।জলজ জীবনের জন্য এদের কিছু বিশেষ অভিযোজন রয়েছেঃ পেটের আঁশ ছোট হয়ে যাওয়া - যাতে পানিতে সহজে চলতে পারে শরীর চ্যাপ্টা এবং বৈঠার মতো লেজ-সাঁতারের জন্য ব্যবহার করে নাকের ছিদ্রে ভালভ এবং তালুতে সিল যাতে পানি ভেতরে না ঢোকে, ত্বকের মাধ্যমে গ্যাস আদান-প্রদান এতে ডুব দিয়ে থাকার সময় বাড়ে হলুদ-পেট সামুদ্রিক সাপের ত্বক আধা-ভেদ্য। ডুব দেওয়ার সময় এবং পানির উপরিভাগে সাঁতার কাটার সময়। এরা ত্বকের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস cutaneous respiration নিয়ে পানি থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে। আগে মনে করা হতো নিচের চোয়ালে থাকা বিশেষ লবণ গ্রন্থি salt gland চারপাশের সমুদ্রের পানি থেকে লবণ ছাঁকনি করে। কিন্তু এখন দেখা গেছে এটি সেই কাজে ব্যবহৃত হয় না। কারণ সামুদ্রিক সাপেরা শুধুমাত্র মিঠা পানিই পান করে তথ্যসূত্রঃউইকিপিডিয়া

পাওয়া যায়:

বাংলাদেশ

বিষের তীব্রতা

খুব উচ্চ - দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন

আকার

এরা লম্বায় সাধারণত ২ ফুট থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।

রঙ ও চিহ্ন

এদের পিঠের দিকটা গাঢ় কালো বা কালচে-বাদামী এবং পেটের দিকটা উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের হয় (যার কারণে এদের এই নামকরণ)। লেজের অংশটি হলুদ এবং তাতে কালো দাগ বা ছোপ থাকে।

বাসস্থান

এরা পৃথিবীর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সামুদ্রিক সাপ (Pelagic snake) যারা সমুদ্রের গভীরে মুক্ত জলে বাস করে এবং জীবনের সব সময় পানিতেই কাটায়। এদের স্থলভাগে আসার প্রয়োজন হয় না। আটলান্টিক মহাসাগর ছাড়া প্রায় সব ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মহাসাগরে এদের দেখা মেলে।

খাদ্য

এদের প্রধান খাদ্য হলো ছোট মাছ ও ইল মাছ (Eels)। এরা শিকারের জন্য পানির নিচে ওঁৎ পেতে থাকে এবং সুযোগ বুঝে দ্রুত আক্রমণ করে।

আচরণ

শান্ত প্রকৃতির সাপ তবে ভয় পেলে আক্রমনাত্মক হয়ে যায়